যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR) বিষয়ক সংগঠন RHSTEP-এর ‘অপরাজেয় তারুণ্য’ (UYP) প্রকল্পের উদ্যোগে আজ ০৯ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবারে রংপুর শাখা কার্যালয়ে ‘ইনক্লুশন অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি’ বিষয়ক একটি সচেতনতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল নারী, পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, ট্রান্সজেন্ডার, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সকল মানুষের সমান অধিকার, সমান সুযোগ, মর্যাদা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জেন্ডার-সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অপরাজেয় তারুণ্য রংপুর শাখার প্রকল্প কর্মকর্তা জনাব অনিমেষ রায়। স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ইয়ুথ অফিসার স্বর্ণালী আচার্য, যিনি তরুণদের মধ্যে জেন্ডার সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির চর্চা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান আবীর,ডেপুটি ম্যানেজার,ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট, সোশ্যাল এম্পাওয়ারমেন্ট এন্ড লিগ্যাল প্রোটেকশন প্রোগ্রাম, ব্র্যাক আঞ্চলিক অফিস, রংপুর । তিনি তার উপস্থাপনায় জেন্ডার বৈষম্যের সামাজিক প্রভাব, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের গুরুত্ব এবং তরুণদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য সকল মানুষের মতামত, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা অপরিহার্য।
পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রাণবন্ত আইস-ব্রেকিং সেশন পরিচালনা ইয়ুথ অফিসার স্বর্ণালী আচার্য। এ সময় তিনি অপরাজেয় তারুণ্য প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম এবং তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কমিউনিটির তরুণ-তরুণীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং জেন্ডার সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর লাভ করেন।
পরবর্তীতে ট্রান্সফরম থ্রু ইনকলুশ নামে একটি ক্রিয়েটিভ সেশন পরিচালনা করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়। প্রচলিত সমাজের সমস্যা চিহ্নিত করণ, সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এবং কেমন সমাজের স্বপ্ন দেখি তা প্রতিষ্ঠিত করা। অংশগ্রহণকারীরা বেশ উচ্ছ্বাসের সহিত কার্যক্রমটিতে অংশ নেয়।
প্রোগ্রামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল একটি সচেতনতামূলক নাটিকা। নাটিকাটির মূল বিষয়বস্তু ছিল একটি গ্রামীণ শালিশে ১৬ বছর বয়সী কিশোরী মালার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের গল্প। নাটিকায় দেখানো হয়, মালা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলেও তার মতামত উপেক্ষা করে পরিবার তার বিয়ের আয়োজন করে। তবে গ্রামের শিক্ষিত যুবক কবির এবং শিক্ষিকা হাসিনা বেগম বাল্যবিবাহের কুফল ও কিশোরীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। তাদের যৌক্তিক বক্তব্য ও সাহসী অবস্থানের ফলে গ্রামবাসীরা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব উপলব্ধি করেন এবং সকল মানুষের মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের গুরুত্ব অনুধাবন করেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির চর্চা বৃদ্ধি করবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অপরাজেয় তারুণ্যের পক্ষ থেকে সকলকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।







