একটি ‘না’ যখন ইতিহাস বদলে দেয়: ফ্রাঙ্কা ভিয়োলার লড়াই।

একটি ‘না’ যখন ইতিহাস বদলে দেয়: ফ্রাঙ্কা ভিয়োলার লড়াই।
​১৯৬৫ সাল। ইতালির সিসিলির মাত্র ১৭ বছরের কিশোরী ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা। যার একটি মাত্র সাহসী উচ্চারণ বদলে দিয়েছিল কয়েকশ বছরের পুরনো এক অন্ধকার আইন।
​ফিলিপ্পো মেলোডিয়া নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ফ্রাঙ্কাকে অপহরণ করে টানা আট দিন অমানুষিক নির্যাতন চালায়। উদ্দেশ্য ছিল একটাই— জবরদস্তি করে বিয়ে করা। তৎকালীন ইতালির আইনে “Marriage of Reparation” বা সম্মান পুনরুদ্ধারের বিবাহ নামে এক অদ্ভুত নিয়ম ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ধর্ষক যদি তার ভিকটিমকে বিয়ে করতে রাজি হতো, তবে তার সমস্ত অপরাধ মাফ হয়ে যেত!
​সমাজ, পরিবার আর চারপাশের মানুষ ফ্রাঙ্কাকে চাপ দিচ্ছিল:
​”ধর্ষণ হয়েছে তো কী হয়েছে? লোকটা তো বিয়ে করতে চায়। বিয়ে করলেই সমাজ তোমায় গ্রহণ করবে, সম্মান ফিরে পাবে।”
​কিন্তু ফ্রাঙ্কা সেই জরাজীর্ণ প্রথাকে চুরমার করে দিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালে আদালত কক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন:
​”আমি কোনো ভোগ্যপণ্য নই যে অপবিত্র হব। আমি কোনো অপরাধীর জীবনসঙ্গিনী হয়ে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেব না।”
​ফ্রাঙ্কা সেই মামলা জিতেছিলেন।
​ধর্ষক মেলোডিয়ার ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়।
​তার এই প্রতিবাদের রেশ ধরে দীর্ঘ সময় পর ১৯৮১ সালে ইতালি সেই মধ্যযুগীয় লজ্জাজনক আইনটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।
ফ্রাঙ্কা পরে তার শৈশবের বন্ধু জিউসেপ্পেকে বিয়ে করেন। জিউসেপ্পে তাকে কোনোদিন ‘নির্যাতিতা’ হিসেবে দেখেননি, বরং সারাজীবন আগলে রেখেছিলেন একজন ‘যোদ্ধা’ হিসেবে।
​ফ্রাঙ্কার এই লড়াই থেকে শিক্ষণীয় বিষয় হল সম্মান কখনো অন্যের করুণায় বা সমঝোতায় আসে না; সম্মান আসে নিজের মেরুদণ্ড সোজা করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহসিকতায়। ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা প্রমাণ করেছেন, একটি শক্ত ‘না’ কখনো কখনো ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

SHARE THIS POST: