সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলার লক্ষ্যে ২২ জুলাই ২০২৬, বুধবারে RHSTEP অপরাজেয় তারুণ্য অফিস, ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হলো “Inclusion and Gender Equity” শীর্ষক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান।

সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলার লক্ষ্যে ২২ জুলাই ২০২৬, বুধবারে RHSTEP অপরাজেয় তারুণ্য অফিস, ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হলো “Inclusion and Gender Equity” শীর্ষক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওরীন সামান্তা সৌমি, সহকারী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ এবং এ. এস. এম. গোলাম জাকারিয়া, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি প্রোগ্রাম, ময়মনসিংহ, ব্র্যাক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রজেক্ট অফিসার জনাব রেসমিনা হক এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইয়ুথ অফিসার জনাব মোঃ এরশাদ মিয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক উপস্থিত অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য এবং দিনের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সমাজে নারী ও পুরুষের সমতা, সমঅধিকার এবং বৈষম্যহীন সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন মেন্টর ফারজানা। তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৈষম্যমূলক আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরাও অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময় করেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে নিজেদের ভূমিকা ও করণীয় সম্পর্কে মতামত প্রদান করেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে—সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবার থেকেই ইতিবাচক মূল্যবোধের চর্চা শুরু করা এবং নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রতি সমান সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল সামাজিক কুসংস্কার ও নারী-পুরুষের বৈষম্য বিষয়ক একটি সচেতনতামূলক নাটিকা। নাটিকাটির পরিচালনায় ছিলেন মেন্টর জুঁই এবং অভিনয়ে অংশগ্রহণ করেন জুঁই, প্রভাত ও রাব্বি। নাটিকাটির মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং নারী-পুরুষের প্রতি অসম আচরণের নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরা হয়। নাটিকাটি উপস্থিত সকলের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা প্রদান করে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি নওরীন সামান্তা সৌমি, সহকারী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ তাঁর বক্তব্যে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সামাজিক ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমতা প্রতিষ্ঠা শুধু আইন বা নীতিমালার বিষয় নয়; বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন আচরণ, চিন্তাভাবনা ও পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সমতার চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিশেষ অতিথি এ. এস. এম. গোলাম জাকারিয়া, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি প্রোগ্রাম, ময়মনসিংহ, ব্র্যাক তাঁর আলোচনায় লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় আমাদের করণীয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণে সচেতনতা বৃদ্ধি, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকের মর্যাদা, অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রজেক্ট অফিসার জনাব রেসমিনা হক তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে আমাদের চিন্তা, আচরণ ও সামাজিক মূল্যবোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণ সমাজকে সচেতন ও নেতৃত্বদানে সক্ষম করে তোলার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আরও দ্রুত সম্ভব। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

SHARE THIS POST:

Recent Post

স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন এবং প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০ টায় RHSTEP-অপরাজেয় তারুণ্য প্রকল্পের উদ্যোগে ঢাকা প্রজেক্ট অফিসে “সবার জন্য সমতা নিশ্চিতকরণে প্রতিবন্ধী বান্ধব স্বাস্থ্য উদ্যোগ” শীর্ষক একটি আলোচনা সভা ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

RHSTEP – UYP প্রকল্পের উদ্যোগে স্বাস্থ্য ও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR) বিষয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে অপরাজেয় তারুণ্য অফিস, উপশহর, রাজশাহীতে ১০ আগষ্ট, ২০২৬ সোমবারে “Ensure Active Participation of Marginalized Groups in Health and SRHR Dialogues and Actions” শীর্ষক একটি অংশগ্রহণমূলক সচেতনতা ও অ্যাডভোকেসি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কিশোর-কিশোরীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় এগিয়ে নিতে ২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবারে আরএইচস্টেপ (RHSTEP) – এর বরিশাল অফিসে “কিশোর-কিশোরীদের জন্য মোবাইল-ভিত্তিক AI (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয়