১৫ জুন ২০২৬, সোমবার সকাল ১০:৩০ টায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR) বিষয়ক সংগঠন RHSTEP – এর বাস্তবায়িত ‘অপরাজেয় তারুণ্য’ (UYP) প্রকল্পের উদ্যোগে আজ রংপুর শাখা কার্যালয়ে ‘ইনক্লুশন অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি’ বিষয়ক একটি সচেতনতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।

১৫ জুন ২০২৬, সোমবার সকাল ১০:৩০ টায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR) বিষয়ক সংগঠন RHSTEP – এর বাস্তবায়িত ‘অপরাজেয় তারুণ্য’ (UYP) প্রকল্পের উদ্যোগে আজ রংপুর শাখা কার্যালয়ে ‘ইনক্লুশন অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি’ বিষয়ক একটি সচেতনতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল নারী, পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, ট্রান্সজেন্ডার, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সকল মানুষের সমান অধিকার, সমান সুযোগ, মর্যাদা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জেন্ডার-সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অপরাজেয় তারুণ্য রংপুর শাখার প্রকল্প কর্মকর্তা জনাব অনিমেষ রায়। স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ইয়ুথ অফিসার স্বর্ণালী আচার্য, যিনি তরুণদের মধ্যে জেন্ডার সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির চর্চা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কুন্তলা চৌধুরী। তিনি তার উপস্থাপনায় জেন্ডার বৈষম্যের সামাজিক প্রভাব, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের গুরুত্ব এবং তরুণদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য সকল মানুষের মতামত, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালের কণ্ঠের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবুল খায়ের জায়েদ।
পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রাণবন্ত আইস-ব্রেকিং সেশন পরিচালনা করেন UYP প্রকল্পের রংপুর শাখার মেন্টর রুমান শেখ ও আনিকা তাসকিন। এ সময় তারা অপরাজেয় তারুণ্য প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম এবং তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কমিউনিটির তরুণ-তরুণীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং জেন্ডার সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর লাভ করেন।
প্রোগ্রামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল একটি সচেতনতামূলক নাটিকা। নাটিকাটির মূল বিষয়বস্তু ছিল একটি গ্রামীণ সালিশে ১৬ বছর বয়সী কিশোরী মালার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের গল্প। নাটিকায় দেখানো হয়, মালা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলেও তার মতামত উপেক্ষা করে পরিবার তার বিয়ের আয়োজন করে। তবে গ্রামের শিক্ষিত যুবক কবির এবং শিক্ষিকা হাসিনা বেগম বাল্যবিবাহের কুফল ও কিশোরীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। তাদের যৌক্তিক বক্তব্য ও সাহসী অবস্থানের ফলে গ্রামবাসীরা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব উপলব্ধি করেন এবং সকল মানুষের মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের গুরুত্ব অনুধাবন করেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির চর্চা বৃদ্ধি করবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অপরাজেয় তারুণ্যের পক্ষ থেকে সকলকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

SHARE THIS POST: