২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে “সচেতনতা, সমতা ও নেতৃত্ব—তরুণরাই গড়বে আগামীর পরিবর্তন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে RHSTEP – অপরাজেয় তারুণ্য, রাজশাহী ইউনিটের উদ্যোগে সেন্ট লুইস স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় “স্কুল পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি – ০২”।
উক্ত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচ্য বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল – বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, বাল্যবিবাহ ও অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি, SRHR ও মানসিক স্বাস্থ্য, বন্ধু নির্বাচন ও “না” বলতে শেখা, জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিং।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর ইয়ুথ এডভোকেট জিনিয়ার পরিচালনায় একটি প্রাণবন্ত আইস-ব্রেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন গেমসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জড়তা দূর করা হয় এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক পরিবর্তন, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে আলোচনা করেন মেডিকেল স্টুডেন্ট তমা। প্রজেক্ট অফিসার দিপ্তী সরকার বাল্যবিবাহ ও অল্প বয়সে গর্ভধারণের ফলে সৃষ্ট শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। মেন্টর রাজিয়া সুলতানা মাসিককালীন পরিচর্যা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে উৎসাহিত করেন। মেন্টর নুরুল ইসলাম মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মেন্টর সানজিদা আক্তার বন্ধু নির্বাচন ও “না” বলার দক্ষতা নিয়ে অংশগ্রহণমূলক আলোচনা পরিচালনা করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিং বিষয়ে আলোচনা করেন ইয়ুথ অফিসার মোঃ ফরিদুল ইসলাম। এই সেশনে শিক্ষার্থীদের জোড়ায় জোড়ায় দাঁড় করিয়ে একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়, যেখানে তারা নিজেদের সঙ্গীর সম্পর্কে জেনে তা উপস্থাপন করে – যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং প্রোগ্রাম শেষে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ফিডব্যাক গ্রহণ করা হয়।
উক্ত আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন প্রজেক্ট অফিসার দিপ্তী সরকার এবং সঞ্চালনা করেন ইয়ুথ অফিসার মোঃ ফরিদুল ইসলাম।
সার্বিকভাবে, কর্মসূচিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।







