অপরাজেয় তারুণ্য, ময়মনসিংহ ইউনিটের আয়োজনে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সঠিক জ্ঞান প্রদান, বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি আত্মবিশ্বাসী, সুস্থ ও দায়িত্বশীল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত ২৬ জুলাই ২০২৬, রবিবারে মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয় “School Awareness Program – 02”।
“সচেতন প্রজন্মই গড়বে সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, স্বাস্থ্য সচেতনতা, খাদ্য ও পুষ্টি, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনসহ কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য সহকারী শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত থেকে আয়োজিত কার্যক্রমকে উৎসাহিত করেন। তাঁদের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের সেশন পরিচালনা করেন মেন্টর প্রভাত দাস ও মেন্টর ফারজানা। সেশনের শুরুতে তাঁরা বয়ঃসন্ধিকালীন সময়কে কিশোর-কিশোরীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকাল হিসেবে উল্লেখ করে এ সময়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে সংঘটিত বিভিন্ন স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি বয়ঃসন্ধিকালে নিজেদের শরীর ও মনের পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা এবং কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সেশনে কিশোর-কিশোরীদের খাদ্য ও পুষ্টির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বয়ঃসন্ধিকালে দ্রুত শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কারণে পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, সুষম খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। এ সময় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পরিহারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
আলোচনায় আরও তুলে ধরা হয় যে, বয়ঃসন্ধিকালে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পুষ্টি কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ শারীরিক বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বয়সে নিজেদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মনোমুগ্ধকর একটি গান পরিবেশন করে এবং অপর একজন শিক্ষার্থী আবৃত্তি করে একটি কবিতা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে এবং অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ততা আরও বৃদ্ধি করে। তাদের এই অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে একটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত করে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে সঠিক ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এবং ভবিষ্যতে একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও সচেতন হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন UYP-এর ইয়ুথ অফিসার জনাব মোঃ এরশাদ মিয়া। তিনি অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান এবং অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও প্রাণবন্তভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর সঞ্চালনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন UYP-এর প্রোজেক্ট অফিসার জনাব রেসমিনা হক। তিনি তাঁর বক্তব্যে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সঠিক জ্ঞান ও তথ্যের মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, আজকের কিশোর-কিশোরীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের সুস্থতা, নিরাপত্তা, আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা নিশ্চিত করা একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান শর্ত।
আলোচনাকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। তারা বয়ঃসন্ধিকাল, শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, খাদ্য ও পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত প্রদান করে। সেশন পরিচালনাকারীরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। ফলে পুরো অনুষ্ঠানটি একটি প্রাণবন্ত, জ্ঞানভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা, সঠিক খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীল হওয়ার মানসিকতা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আগ্রহের মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয় যে, প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য, জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা পেলে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে।







