UYP – অপরাজেয় তারুণ্য, ময়মনসিংহ ইউনিটের আয়োজনে সচেতনতা ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৪ই মে ২০২৬ তারিখে “বিহারী ক্যাম্প” ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হলো, Awareness Program on SRHR কর্মসূচি – ০৩। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য “সচেতন তরুণই নিরাপদ আগামীর ভিত্তি” স্লোগানটি সামনে রেখে বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানষিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়গুলো সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীদের সাথে মত বিনিময় ও আলোচনা করা হয়।
প্রোজেক্ট অফিসার জনাব রেসমিনা হক এর সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন ইয়ুথ অফিসার জনাব মোঃ এরশাদ মিয়া। সভার শুরুতেই উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সভা কার্যক্রম শুরু করেন সঞ্চালক মহোদয়।
সঞ্চালক মহোদয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে দিনের আলোচ্যসূচিগুলো উঠে আসলে পরবর্তী সেশনের শুরুতেই বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা ও কুসংস্কার নিয়ে প্রথম সেশনটি পরিচালনা করেন মেন্টর জুঁই। এরপর ‘মিথ বনাম ফ্যাক্ট’ নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের ধারনাকে আরও স্পষ্ট করতে একটি খেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে, কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণ ও দ্বিধাহীনভাবে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা UYP প্রজেক্টের সফলতা দেখতে পাই। কেননা, এই কিশোর-কিশোরীরাই কিছুদিন আগেও যখন মুখ ফোটে কোন একটি সমস্যার কথা বলতে সাহস করেনি অথচ আজ তারা বয়ঃসন্ধিকালীন নিজস্ব অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে, যা UYP পরিবারের জন্য এক নতুন আশার বার্তাই বটে!
এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরীদেরকে তাদের প্রথম মাসিকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে বললে, তারা দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে নিজেরাই তাদের দলের নামকরণ করেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। “কাঠগোলাপ” নামাঙ্কিত দলের সদস্যরা তাদের প্রথম মাসিকের অভিজ্ঞতায় বলেন, “এটি হয়তো একটি রোগ “,”খুব ভয় কাজ করেছিলো”,”ভিতরে কিছু কেটে গিয়েছে মনে করেছিলাম”,” কাউকে না বলে ঘটনাটিকে লুকিয়ে রেখেছিলাম”,” কোন ছেলের সাথে মেশা যাবে না”,”তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা হয়েছিল “,” মেজাজ খিটখিটে লাগতো “,” মন খারাপ করে বসে থাকতাম “, ” সবকিছুতে কেমন যেন বিরক্তিবোধ হয়েছিলো” ইত্যাদি।
কাঠগোলাপ ও রজনীগন্ধা দলের সদস্যরা প্রত্যকেই একটি করে অভিজ্ঞতা বিনিময় করে। তবে, আজ তারা খুব সহজেই জানতে পারছে যে, এটি খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার মাত্র। এছাড়াও, তারা মনে করেন এই বিষয়টি নিয়ে যদি প্রত্যেকটি আগে থেকেই জানতো তাহলে নিশ্চয়ই তাদের মাঝে কোন ভয় কাজ করতো না।
এরপর কিশোর/কিশোরী বয়সে বন্ধুত্বের গুরুত্ব, বন্ধু নির্বাচন, বন্ধুর প্রতি বন্ধুর দায়িত্ব, বন্ধুত্বের মাধ্যমে সামাজিক ও মানসিক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে এবং বাল্যবিবাহের কুফলসহ সর্বোপরি আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও আত্নবিশ্বাসী হয়ে নিজেদেরকে গড়ে তোলার করনীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
এরপর স্বাস্থ্য বিষয়ক সেশনটিতে মেন্টর প্রভাত দাস, সুষম খাদ্য কি, সুষম খাদ্য কোনগুলো, সুষম খাদ্য কেন খেতে হবে, পুষ্টি কি, কোন খাবারে কোন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় ইত্যাদি বিষয়গুলো বিভিন্ন চার্টের মাধ্যমে তার আলোচনায় তুলে ধরেন। এতে উপস্থিত কিশোর-কিশোরীরা খুব সহজেই বুঝতে সক্ষম হয় যে, এই বয়ঃসন্ধিকালে সঠিক খাবার গ্রহনের গুরুত্ব আসলে কতটুকু! সভার, পরবর্তী পর্যায়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়৷
এছাড়াও, কুইজের ফলাফল প্রদানের আগে অনুষ্ঠানে আবৃত্তি উপস্থাপন করেন কিশোরী, চাঁদনী। সে আবৃত্তি করে কাজী নজরুল ইসলামের “নারী” কবিতাটি। এরপর একক গান পরিবেশন করেন কিশোরী, নিলুফা৷
অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায়, সভা-প্রধান জনাব রেসমিনা হক এর সমাপনী বক্তব্যে দিনের আলোচ্যসূচি হিসেবে নির্ধারিত বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক পরিবর্তন, খাদ্য, পুষ্টি, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীদেরকে কেন বেশি বেশি করে জানতে হবে তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এরপর তিনি কুইজ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন এবং উপস্থিত সকলকে আবারো ধন্যবাদ জানিয়ে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।







