স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন এবং প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০ টায় RHSTEP-অপরাজেয় তারুণ্য প্রকল্পের উদ্যোগে ঢাকা প্রজেক্ট অফিসে “সবার জন্য সমতা নিশ্চিতকরণে প্রতিবন্ধী বান্ধব স্বাস্থ্য উদ্যোগ” শীর্ষক একটি আলোচনা সভা ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রাণবন্ত সূচনা বক্তব্য ও আইস ব্রেকিং সেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন RHSTEP-অপরাজেয় তারুণ্য প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু রায়হান। এরপর কর্মসূচির কো অর্ডিনেটর সুরাইয়া জান্নাত সুমি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মানবাধিকার ও এর আইনি ভিত্তি সম্পর্কে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু পাল রাজিব। সেশনে তরুণদের বিশেষভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণদের নিজেদের স্বাস্থ্য অধিকার অর্জনে তিনি নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিবন্ধী তরুণরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মৌলিক ধাপগুলো যেমন – স্বাস্থ্য চাহিদা নির্নয় ও সে অনু্যায়ী চিকিৎসালয়/চিকিৎসক নির্বাচন, রোগ নির্নয় পরবর্তী চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা নীরিক্ষাসহ অন্যান্য ধাপগুলোতে কি কি ধরণের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় সেগুলো উল্লেখ করেন। আলোচক তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তনের সূচনা কেবলমাত্র তখনই সম্ভব যখন নিজ পরিবার, প্রতিবেশী তথা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে মানসিকতা ও চর্চায় পরিবরতন আসবে।
অংশগ্রহণকারীরা রাষ্ট্রায়ত্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী বান্ধব সেবা ব্যবস্থার অভাব যেমন – প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী লিফট, র্যাম্প, বিশেষায়িত শৌচাগারের অভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে সাংকেতিক ভাষায় পারদর্শী দোভাষী না থাকায় বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগে জটিলতার বিষয়টিও উঠে আসে। এমনকি অংশগ্রহণকারীরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে তথ্য বা প্রেসক্রিপশন প্রদানের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
সর্বশেষ সেশনে সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার আকতানিন খায়ের তানিন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের দৈনন্দিন জীবন অনুভব করার জন্য একটি বিশেষ ‘এম্প্যাথি ম্যাপিং’ সেশন পরিচালনা করেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ এই সেশনে অংশগ্রহণকারী অন্য সকলে চোখ বন্ধ করে ব্রেইল পদ্ধতিতে কিভাবে আংগুলের স্পর্শে অক্ষর চিনতে হয় সেটি অনুভব করেন এবং পরবর্তীতে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।







