ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ১৮ জুলাই,শনিবার RHSTEP অপরাজেয় তারুণ্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ” Film Workshop”। অপরাজেয় তারুণ্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রজেক্ট অফিসার অপু দাশগুপ্তের সভাপতিত্বে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চলচ্চিত্র সমালোচক সৈকত দে। কর্মশালার শুরুতে তিনি বলেন, “অপরাজেয় তারুণ্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে এমন চমৎকার একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সাধুবাদ জানাই। আজকের এই ফিল্ম ওয়ার্কশপের মূল লক্ষ্য কেবল সিনেমা দেখা শেখানো নয়, বরং সিনেমার ভেতর দিয়ে পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখা শেখানো।”
আলোচক সৈকত দে আরো বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন—কেন সিনেমা দেখব? বিনোদনের তো অভাব নেই। কিন্তু আমি বলব, সিনেমা কেবল বিনোদন নয়; সিনেমা হলো মানুষের জীবনের আয়না, ইতিহাসের দলিল এবং সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। আমরা যখন একটি ভালো সিনেমা দেখি, তখন আমরা কেবল পর্দার গল্প দেখি না, বরং সেই গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা হাজার হাজার মানুষের জীবনযাপন, তাদের আবেগ, সংগ্রাম এবং স্বপ্নের মুখোমুখি হই।
আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধ, কিন্তু সিনেমা আমাদের সেই সীমাবদ্ধতাকে জয় করার সুযোগ দেয়। এটি আমাদের সহানুভূতিশীল করে তোলে, যা বর্তমান সময়ের পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। একটি ভালো চলচ্চিত্র আমাদের ভেতরে প্রশ্ন করার ক্ষমতা তৈরি করে। কেন এই দৃশ্যটি এমন? কেন এই চরিত্রটি এমন আচরণ করল? এই যে ‘কেন’ খোঁজার প্রবণতা—এটিই একজন মানুষকে সৃজনশীল এবং চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তরুণরাই আগামীর পথপ্রদর্শক। আপনারা যখন বিশ্বমানের সিনেমাগুলো দেখবেন, তখন আপনাদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হবে। আপনারা বুঝতে শিখবেন কীভাবে ফ্রেমের পর ফ্রেম সাজিয়ে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়া যায়। আমি চাই, আপনারা সিনেমাকে কেবল উপভোগ করবেন না, এর কারিগরি দিক এবং এর পেছনের দর্শনকেও অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন।”
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের চলচিত্র বিষয়ক আরো কিছু ধারণা প্রদান করেন আনিস রায়হান, কো-অর্ডিনেটর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটি।
আলোচনা পর্ব শেষে ‘The Wild Robot’ সিনেমাটি দেখানো হয়।









