RHSTEP অপরাজেয় তারুণ্য, খুলনা কেন্দ্রের উদ্যোগে ১৭ জুন ২০২৬ বুধবারে “Inclusion & Gender Equity-01” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

RHSTEP অপরাজেয় তারুণ্য, খুলনা কেন্দ্রের উদ্যোগে ১৭ জুন ২০২৬ বুধবারে “Inclusion & Gender Equity-01” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল জেন্ডার সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্য সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করে তোলা।
প্রকল্প কর্মকর্তা সুজয় চৌধুরী সাম্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয় অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় পর্বের মাধ্যমে। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীদের সম্পৃক্ত করতে তাদের প্রিয় ফুটবল দল ও খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে একটি মজার গেম পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচির পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পেশার নাম দিয়ে গ্রুপভিত্তিক ছবি আঁকার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ কার্যক্রমে উপস্থিত অতিথিরাও অংশগ্রহণ করেন। সেশনটি পরিচালনা করেন ইয়ুথ অফিসার নোশিন তাবাসসুম। ছবি আঁকার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন পেশাকে পুরুষকেন্দ্রিকভাবে কল্পনা করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীতে এ ধরনের ধারণার কারণ ও এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এরপর প্রকল্প কর্মকর্তা সুজয় চৌধুরী সাম্য একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে জেন্ডারভিত্তিক সামাজিক ট্যাবু নিয়ে ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। আলোচনায় তুলে ধরা হয়, মেয়েদের প্রতি সমাজে বিদ্যমান নানা নেতিবাচক ধারণা ও বৈষম্য কোন বয়স থেকে প্রকট হতে শুরু করে এবং এসব ট্যাবুর উৎপত্তি ও নিরসনের উপায় কী হতে পারে। এছাড়া ছেলে ও মেয়েদের জন্য সমাজ কর্তৃক নির্ধারিত খেলা, খেলনা ও আচরণগত প্রত্যাশা নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে সামাজিক স্টেরিওটাইপ ও জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্যের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়। এ বিষয়ে উপস্থিত অতিথিরাও তাদের মতামত প্রদান করেন।
আলোচনা পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিকাশ চন্দ্র সরকার, সাংস্কৃতিক শিক্ষক, মাওলানা ভাসানী বিদ্যাপীঠ; শিরিনা আক্তার, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শশীভূষণ মাধ্যমিক স্কুল; এবং আয়েশা বেগম, প্রধান শিক্ষক, খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল।
বিকাশ চন্দ্র সরকার সমাজে জেন্ডার বিষয়ে প্রচলিত ইতিবাচক ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূরীকরণে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিরিনা আক্তার বলেন, সমাজের বৈষম্যমূলক মনোভাবের সূচনা পরিবার থেকেই হয়; তাই পরিবর্তনের শুরুটাও পরিবার থেকেই হওয়া প্রয়োজন। আয়েশা বেগম সমাজে জেন্ডার বৈষম্যের বহুমাত্রিক প্রভাব এবং তা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। সমাপনী বক্তব্যে প্রকল্প কর্মকর্তা সুজয় চৌধুরী সাম্য সকলকে সমাজের ইতিবাচক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সকল জেন্ডারের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরিশেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

SHARE THIS POST: