৭ এপ্রিল, “বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস -২০২৬” উপলক্ষে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত “স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ” প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব এবং WHO কর্তৃক বিশ্ব-ব্যাপি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত কার্যক্রমের তাৎপর্য ও করনীয়’কে সামনে রেখে UYP (অপরাজেয় তারুণ্য) ময়মনসিংহ শাখায় বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় এক আলোচনা সবার আয়োজন করা হয়।
প্রজেক্ট অফিসার রেসমিনা হক এর সভাপতিত্ত্বে ও ইয়ুথ অফিসার জনাব মোঃ এরশাদ মিয়া’র শুভেচ্ছা ও সঞ্চালনায় সভা-কার্য শুরু হলে প্রথমেই বক্তব্য রাখার জন্য আহবান করা হয় ইউওয়াইপি-এডভোকেট মনিষা দাস কে। মনিষা দাস তার আলোচনায়, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল বিষয়টিকে তুলে ধরে, “স্বাস্থ্য-অধিকার” সম্পর্কিত বিষয়টির উপর গুরুত্বারোপ করে, এ বিষয়ে আমাদের প্রত্যেকের মাঝে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমেই যে আমরা আমাদের পরিবার, সমাজ ও সর্বোপরি সকলের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে সামনে এগুতে পারি, তিনি এমনটি আশা প্রকাশ করে তার আলোচনা শেষ করেন।এরপর, সঞালক মনিষা দাসের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে, এডভোকেট রেজোয়ান নাসিফ কে তার বক্তব্য প্রদানের জন্য আহবান করেন।নাসিফ, প্রথমেই স্বাস্থ্য দিবস প্রতিপাদ্য-২০২৬ এর প্রতিপাদ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাছাড়া, চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে সফলতার বিষয়টি উপস্থাপন-পূর্বক তিনি তার আলোচনা শেষ করেন। ধারাবাহিক আলোচনায় এরপর বক্তব্য রাখেন এডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস মিলি। মিলি তার বক্তব্যে “স্বাস্থ্যই-সম্পদ” স্লোগানটিকে তুলে ধরেন এবং এই স্বাস্থ্য-সম্পদকে রক্ষা করতে গিয়ে আমরা কেমন করে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছি অর্থাৎ চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি তিনি তার আলোচনায় তুলে ধরেন। আলোচনার ধারাবাহিকতায় এ পর্যায়ে এডভোকেট নাঈম তার বক্তব্যে, খেলাধূলা ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমেও যে আমরা আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারি এবং খেলাধূলা বা বিনোদনের মাধ্যমে আমাদের মানুষিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সচেতন হওয়ার বিষয়টির উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে এডভোকেট বন্যা তার বক্তব্যে, বয়ঃসন্ধি কালে মানুষিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কিশোর-কিশোরীদেরকে অনেক বেশি সচেতন থাকা এবং দৈনন্দিন সকল অনিয়মগুলোকে পিছনে রেখে সঠিক খাবার গ্রহনের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতের দিকটি তিনি তার আলোচনায় স্পষ্ট করেন। সভায় এ পর্যায়ে, UYP এর আহ্বানে আগত কিশোর-কিশোরীদের মধ্য থেকে স্বাস্থ্য দিবস নিয়ে কিছু বলবার আহবান জানালে
মিতালি সরকার বলেন, এই -UYP তে আসার পরেই সে বয়ঃসন্ধি কাল ও বয়ঃসন্ধি কালে মানুষিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে তিনি বুঝতে শিখেছেন।
আর এই অভিজ্ঞতা আজকে তাকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি UYP(অপরাজেয় তারুণ্য) ময়মনসিংহ এর প্রতি ভালোবাসা জানান। সভার এ পর্যায়ে বক্তব্য প্রদানে সঞ্চালকের আহবানে কথা বলেন মেন্টর, জনাব জুঁই.জুঁই তার বক্তব্যে নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিজেদেরকেই সচেতন হওয়ার বিষয়টিকে প্রথমত আমাদের প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করলেও আধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও করনীয় বিষয়টিকে চমৎকার করে উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নিয়মের অনিয়ন্ত্রায়নের ফলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এই স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে আমাদেরকে কখনো যদি অধিকার আদায়ের আন্দোলনে মাঠে নামতে হয় তাহলে, আমাদের তখন সেই পথে হেটে হলেও অধিকার নিশ্চিত করতে পিছপা হওয়া যাবে না এই আহবান এর মধ্য দিয়ে তার আলোচনার সমাপ্তি আনেন। এরপর সভায় বক্তব্য রাখেন মেন্টর প্রভাত দাস। প্রভাত দাস তার বক্তব্যে আমাদের দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনিয়মের কথা বলতে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রযুক্তিগত প্রতারণা, নিন্মমানসম্পন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহার,বেসরকারি পর্যায়ে অনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা প্রদান, সচেতনতার অভাব, ক্লিনিকগুলোতে সেবার পেছনে ব্যবসায়িক ফায়দা হাকনো ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে সর্বোচ্চ মহল থেকে শুরু করে আমাদের সকলের সচেতন হওয়ার বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বক্তব্যে ইতি টানেন।
পরিশেষে, আলোচনায় অংশ নেয়া সকলের প্রতি ধন্যবাদ রেখে সঞ্চালক মহোদয় সভাপতি মহোদয়কে তার গুরুত্বপূর্ণ ও সমাপনি বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে আলোচনার সমাপ্তি ও আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণার জন্য আহবান জানান..।
সভাপ্রধান তার এই স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনার শুরুতেই, “স্বাস্থ্য বলতে আসলে আমরা কি বুঝি” প্রশ্ন উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বলতে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে একটি সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের বেড়ে ওঠাকেই মূলত আমরা স্বাস্থ্য বলি। তার সাথে তিনি “একক স্বাস্থ্য” বা One Health বলতে মানুষ, পশুপাখি এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশসহ আমাদের জীবনের সাথে যুক্ত বিষয়গুলোও যে একত্রে One Health হিসেবে পরিচিত তা তা তিনি তার বক্তব্যে তুলে আনেন। এছাড়াও, ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ এর ধারনা ও এর গুরুত্বের বিষয়ে আমাদের পড়াশোনা বৃদ্ধি এবং সে মোতাবেক কাজ করাসহ সর্বোপরি সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে রাষ্ট্রের ভূমিকার উপর জোড়ারোপ করে, সভায় উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে আলোচনা সভা সমাপ্ত করেন।







