নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে অপরাজেয় তারুণ্য (ইউওয়াইপি)– ময়মনসিংহ ইউনিট ০৮ জুন ২০২৬ তারিখে “স্বাস্থ্য সংস্কারে তরুণ নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রতিবন্ধী যুবসমাজের সম্পৃক্ততা” বিষয়ক একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাজের প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে অপরাজেয় তারুণ্য (ইউওয়াইপি)– ময়মনসিংহ ইউনিট ০৮ জুন ২০২৬ তারিখে “স্বাস্থ্য সংস্কারে তরুণ নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রতিবন্ধী যুবসমাজের সম্পৃক্ততা” বিষয়ক একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, তরুণ-তরুণী, প্রতিবন্ধী অংশগ্রহণকারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নারী অধিকার, স্বাস্থ্য অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, উপস্থাপনা এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে কর্মসূচিটি একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রভাবসঞ্চারী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক নতুন দিগন্তে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু উন্নয়নের এই যাত্রা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমানভাবে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবেন। বর্তমান বাস্তবতায় নারীরা এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। একইভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে প্রবেশাধিকারে নানা প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সুযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সচেতনতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল ১১:০০ ঘটিকায় অতিথিবৃন্দের আগমন ও আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন অপরাজেয় তারুণ্যের ইয়ুথ অফিসার জনাব মোঃ এরশাদ মিয়া এবং সভাপতিত্ব করেন প্রোজেক্ট অফিসার জনাব রেসমিনা হক।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ-এর প্রোগ্রাম অফিসার জনাব নাসিমা খাতুন এবং ব্র্যাক, ময়মনসিংহ-এর ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জনাব জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানের সূচনায় অ্যাডভোকেট মারজিয়া এবং তাঁর দল একটি নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেন।
পরবর্তীতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইয়ুথ অফিসার জনাব মোঃ এরশাদ মিয়া। তিনি তরুণদের ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এরপর মেন্টর জুই নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন কেবল নারীর উন্নয়ন নয়; এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অপরিহার্য শর্ত।
অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে অদিতি সাহা এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি সুরভী আক্তার তাঁদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে বৈষম্য, সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং সম্ভাবনার গল্প উঠে আসে, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
বিশেষ অতিথি জনাব জাহাঙ্গীর আলম তাঁর বক্তব্যে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সেই অধিকার সংরক্ষণে পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে মেন্টর প্রভাত দাস “নারীর অধিকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য অধিকার এবং সামাজিক মূল্যায়ন” বিষয়ে একটি তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। উপস্থাপনায় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির চ্যালেঞ্জ, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এরপর প্রদর্শিত হয় “আসমা” শীর্ষক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি নারীর জীবনসংগ্রাম, আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক বাস্তবতার একটি শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
প্রধান অতিথি জনাব নাসিমা খাতুন তাঁর বক্তব্যে নারী অধিকার বাস্তবায়নে সরকার ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা, সরকারি বিভিন্ন বিনামূল্যের কর্মসূচি এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা এবং নেতৃত্ব বিকাশে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সবশেষে সভাপতির বক্তব্যে জনাব রেসমিনা হক একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
 

SHARE THIS POST: